একটি মুক্ত
পাঠচক্র আন্দোলন

ফিচার

বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্জালিক কিশোর উঠান কাকাড্ডা ডট কম

দু'বছর আগেরকার ঘটনা। বর্ষার শেষদিক, হুটহাট বৃস্টি নেমে আসে যখন-তখন। ঘরে বসে আচারের তেলে মুড়ি মাখিয়ে খাওয়া ছাড়াও আদৃতা, সৃজনের সাথে আমার ফেসবুকের ইন্টেলেকচুয়াল চ্যাট থেকে বের হয়ে কিভাবে একটা মুখোমুখি আড্ডার আয়োজন করা যায় সে চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিলো তখন। বসি বসি করে অনেকদিন পর বসা হলো একসাথে। তারপর প্রতি সপ্তাহে বসা শুরু। আমাদের সাপ্তাহিক আড্ডার নাম দিলাম কাকাড্ডা। মানে কাকের আড্ডা। এই অদ্ভুত নামের কারণেই সম্ভবত ভীড় বাড়তে লাগলো আমাদের আড্ডায়। প্রাণে প্রাণ মেলানোর খেলায় গোটা ত্রিশেক সদস্যের প্রানোচ্ছল একটা দল পেয়ে গেলাম আমরা!

মাস পাঁচেক পরে একটা ছোট্ট পত্রিকার কাজে হাত দেয় কাকাড্ডা । ফেসবুক আর স্কুলে-কলেজে ঘুরে ফিরে অনেক অনেক লেখা পেলাম আমরা। বেশ মজার ছিলো এই লেখা খোঁজা আ র লেখা বাছাইয়ের কাজ। অনেকটা মায়া দিয়ে সাজিয়ে ছিলাম আমাদের প্রকাশনা বিষমিষ্টি' প্রথম সংখ্যা। প্রথম প্রকাশনা বলে, ছোট্ট একটা উৎসব আয়োজন করলাম বিয়ামের রেইনট্রি তলায়। উৎসব ছোট্ট হলেও, আমাদের অন্যভস্ততা খাটিয়েছে বেশ ক’দিন। টানা এক সপ্তাহ ধরে চলেছে প্রস্তুতি। আয়োজনটা যদি হয়ে থাকে উৎসব, তবে প্রস্তুতিটাকে বলা চলে মহোৎসব। বারো গজি বিশাল কাপড়ে গ্রাফিটি করা, পাটশোলার ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরী, অ্যারিগ্যামি, ককশীটে পাখি-ফুল বানানো এতোসব কাজ ছেলে মেয়েরা এত্তো আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়ে করেছে যে আমি ভয় পেয়ে গিয়ে ছিলাম। ভাবছেন এতে ভয়ের কি?! প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ মেলাতে গিয়ে এই কিশোর প্রাণ গুলো কাজের সাহস হারিয়ে ফেলতে পারে এই ভয়টাই আমি পেয়েছিলাম। কিন্তু সবার প্রচেস্টা আর কিছু মানুষের ছাতার মতো পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করায় আমার জীবনের সবচেয়ে মোহনীয় সন্ধ্যা দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো উৎসবের দিনটায়। সন্ধ্যাবাতি, ফানুস, ধূপ আর খালি গলায় সুরের মূর্চ্ছনায় সম্মোহিতের মতো উপভোগ করেছিলাম আমি আর আমার অসাধারণ কিশোর বাহিনী। উৎসব আয়োজনের অসাধারণ অভিজ্ঞতাই আমাদের আরো বেশী করে জড়িয়ে ফেলেছিলো কাকাড্ডায়।

উৎসবের রেশ থাকতে থাকতেই চলে এলো বইমেলা। আমাদের কাকাড্ডার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চে উন্মোচনের মূহুর্ত এই একুশে বইমেলা। মেলার সাতটা দিন বুক নিঙ্গরে ভালোবাসার লেনাদেনা হয়েছে আমাদের আর আমাদের শুভাকাঙ্খীদের মাঝে। একেকটা অর্জন আমাদের স্বপ্নকে দিয়েছে জ্বালানী, আরো বড় স্বপ্ন ঘিরে ফেলেছে আমাদের। জুনে কাকাড্ডার আয়োজনে ইশকুল উৎসব আমাদের দেখিয়েছে মুদ্রার অন্য পিঠ। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ পুরোপুরি মেলেনি সেবারে। কিন্তু ততোদিন আমরা স্পর্ধা করতে শিখে গেছি।

তারপরেও চলেছে পাঠচক্রের কাজ। পড়াশোনার খাতিরে আমাদের অনেকেরই চলে আসা হয়েছে স্নিগ্ধ কিশোরগঞ্জ শহর থেকে। অন্যদিকে এথিকসের জায়গা থেকে আমরা কখনোই কোচিং, প্রাইভেট হোম কিংবা ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে বিজ্ঞাপন নেই নি। অথচ কিশোরগঞ্জের মতো ছোট্ট শহরে এই সব প্রতিষ্ঠান ছাড়া আমাদের ম্যাগাজিনের জন্য মাস তিনেক পর পর বিজ্ঞাপন দেবে এমন প্রতিষ্ঠান শহরে অপ্রতুল। তাছাড়া যেকোনো প্রকারের বিজ্ঞাপন নেয়াও আমাদের নৈতিকতায় বাঁধে। কিন্তু আমরা মনে প্রাণে চাই, আমাদের লেখাগুলো মানুষকে জানাতে, দেখাতে। আমাদের নৈতিকতার বোধে অনঢ় থেকে স্বপ্নের দিকে ছুটতে গিয়ে অন্তর্জালই হয়েছে আমাদের শেষ আশ্রয়।

গত মাস ছয়েকের পরিকল্পনা, পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আমরা কাকাড্ডা ডট কম (kakadda.com) নামের এই অন্তর্জালিক উঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে পেরেছি। আমরা জানি, এই উদ্যোগটিরও পথচলা সহজ হবে না। তারপরেও আমি, আমার বন্ধুরা কাকাড্ডার কিশোরের দল নিজেদের তারূণ্যকে এই কাকাড্ডার জন্য ব্যয় করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট আর সরল সোজা। কি করে পরীক্ষায় বেশি নাম্বার তোলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উৎরাতে হয় ইত্যাদি হট টপিক আমরা প্রকাশ করতে চাই না। বরংচ কিভাবে বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস নিয়ে এদেশের কিশোর-কিশোরীদের ভাবনার খোরাক যোগানো যায় এই নিয়ে কাকাড্ডা কাজ করবে। তাছাড়া কিশোরদের উপযোগী করে প্রবন্ধ প্রয়োজনে ভিডিও কন্টেন্ট প্রকাশ করতে চাই আমরা। রাজনীতি, অর্থনীতি, নৈতিকতার মতো বিষয় গুলোর প্রচলিত অনেক টার্ম এদেশের অল্পবয়সী শিক্ষার্থী বোঝে না, কেবল মাত্র গুরু গম্ভীর লেখন পদ্ধতির জন্য। যার ফলে আধো-আধো জানার মতো ভয়ংকর একটা ব্যাপার আমাদের মধ্যে থেকে যায়। আমাদের ইচ্ছে, এই টার্ম গুলোর একটা সহজ-সরল ব্যখ্যা কিশোর পাঠকদের কাছে তুলে ধরা।



কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নেই।‘ বয়ঃসন্ধির জটিল সময়টা মসৃণ না হলে এর ছাপ থেকে যায় সারা জীবন। বাংলাদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা, সমাজ বাস্তবতা এমনই যে, কিশোর বয়সের জটিলতাটা সব শ্রেণি-পেশার উর্ধ্বে সত্যের আসনে আসীন হয়ে আছে। এই বয়সটায় সুন্দরের সাথে পরিচিত হওয়াটা খুবই জরুরী। কাকাড্ডার উদ্যোগ রয়েছে বয়ঃসন্ধি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক-চিকিৎসকের পরামর্শে মসৃণ কৈশোর নিশ্চিতে একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করার।



কাকাড্ডার পথচলার পাথেয় মনুষ্যত্ব, প্রগতি আর সাম্য। পৃথিবীর সুন্দর দিকটিকে সবুজ প্রাণটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়াই কাকাড্ডার উদ্দেশ্য। ওয়েবসাইটের এক্সেস এদেশের অনেক কিশোররাই পায় না। তবু আমরা ওদের কাছেও আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। ওদের কাছে পৌঁছানোটা আমাদের সামনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাপানুকূল ঘরে থাকা কিশোরটির সাথে, পরিত্যক্ত বগির কিশোরটিতে আমরা পার্থক্য করি না। তবে আমাদের সব জায়গায় পৌঁছাতে আরো বড় সাংগঠনিক শক্তি ও অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন। আমরা কাকাড্ডা ডট কম ও বিষমিষ্টিকে বিজ্ঞাপন মুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। তাই আপনাদের আন্তরিক সাহায্য আমাদের একান্ত প্রয়োজন।



প্রিয় পাঠক, আপনাকে কাকাড্ডা ডট কম ভিজিট করার আহ্বান রইলো। যদি পুরো লেখাটা পড়ে এই পর্যন্ত আসেন তবে, বাংলাদেশের প্রথম অবাণিজ্যিক আর বাজেট শূন্য কিশোর অন্তর্জালিক উঠোনটির প্রচার ও প্রসারের দ্বায়িত্ব আমরা আপনার কাঁধে তুলে দিতে চাই। আপনার পরামর্শ আর সহযোগিতা সত্যিকার অর্থেই আমাদের প্রচেষ্টায় উৎসাহ যোগাবে।      

লেখকঃ সংগঠক, কাকাড্ডা পাঠচক্র।
শিক্ষার্থী, অর্থায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কাকাড্ডার ডাকবাক্স

কাকাড্ডা ডট কমে সাবস্ক্রাইব করলে মেইলের মাধ্যমে আমাদের সব আপডেট পাবেন

kakadda logo

ঠিকানা:
আলোরমেলা, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০।
সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা - ১২০৯।

ইমেইল:
info@kakadda.com
k
akadda.info@gmail.com

ফোন:
+8801859 304232
+8801971 104077

স্যোশাল লিঙ্কস