সত্যবাদী মামাদ

আফ্রিকার এক রাজ্যে মামাদ নামে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনও মিথ্যা বলতেন না। রাজ্যের সব মানুষ তাকে খুব জানতো। সে রাজ্যের রাজা যখন মামাদের সম্পর্কে জানলেন তখনই তাঁর সেপাইদের আদেশ দিলেন তাঁকে নিয়ে আ্সার জন্য।

নেপোলিয়নের চিঠি । পর্ব ৬ । সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি ।

দু দিন পরে শনিবার সকালে লালমোহনবাবু এসে বললেন, জলের তল পাওয়া যায়, মনের তল পাওয়া দায়। আপনার অতলস্পর্শী চিন্তাশক্তির জন্য আপনাকে একটি অনারারি টাইটেলে ভূষিত করা গেল। —এ বি সি ডি।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলঃ সমুদ্রের এক অনন্য রহস্যপুরী

আমাদের এই পৃথিবীতে যত রহস্যঘন ব্যাপার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে রহস্যপূর্ণ হচ্ছে সমুদ্র। হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত হাজার হাজার কিলোমিটার গভীর এই সমুদ্রের মধ্যে কল্পিত হয়েছে অন্য এক জগৎ, আবিষ্কৃত হয়েছে অদ্ভুত কিছু প্রাণী, এখনো অজানায় ঘিরে রয়েছে বিশাল এলাকা। “বারমুডা ট্রায়াঙ্গল” সমুদ্রপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত এমনই এক রহস্যময় এলাকা।

টুনটুনি ও রাজা

সভার লোক চমকে উঠল, আর টুনটুনি সেই ঢেকুরের সঙ্গে বেরিয়ে এসে উড়ে পালালো।
রাজা বললেন, ‘গেল, গেল! ধর্‌ ধর্‌!’ অমনি দুশো লোক ছুটে গিয়ে আবার বেচারাকে ধরে আনলো।
তারপর আবার জল নিয়ে এল, আর সিপাই এসে তলোয়ার নিয়ে রাজা মশায়ের কাছে দাঁড়াল, টুনটুনি বেরুলেই তাকে দু টুকরো করে ফেলবে।
এবার টুনটুনিকে গিলেই রাজামশাই দুই হাতে মুখ চেপে বসে থাকলেন, যাতে টুনটুনি আর বেরুতে না পারে। সে বেচারা পেটের ভিতরে গিয়ে ভয়ানক ছটফট করতে লাগল!

মেজেন্ডা রঙের পরিচয়

গাড়ি এসে থামল বাসার সামনে। তিনি গাড়ি থেকে নামলেন। লিফটে উঠার আগে দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলেন তার ছেলে কি বাইরে নাকি বাসায়ই আছে। উত্তর পেলেন তার ছেলে বাসায়ই আছে। এখন তিনি তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনবার কলিং বেল চেপেছেন, পাখি ডাকার শব্দ হচ্ছে। কলিং বেলের এই টিঊন টা তার খুব পছন্দ। আগে তাদের কলিং বেলের টিউন ছিল অন্যরকম। ঢং ঢং আওয়াজ করত। তিনিই নতুন টিউনের কলিং বেল লাগানোর ব্যাবস্থা করেছেন। আবার বেল চাপা হল।

বাঘের রাঁধুনী

বাঘের রাঁধুনী ।। এক বাঘের বাঘিনী মরে গিয়েছিল। মরবার সময় বাঘিনী বলে গিয়েছিল, ‘আমার দুটো ছানা রইল, তাদের তুমি দেখো।বাঘিনী মরে গেলে বাঘ বললে, ‘আমি কি করে বা ছানাদের দেখব, কি করে বা ঘরকন্না করব। তা শুনে অন্য বাঘেরা বললে, ‘আবার একটা বিয়ে কর, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বাঘও ভাবলে, ‘একটা বিয়ে করলে হয়। কিন্ত আর বাঘিনী বিয়ে করব না, তারা রাঁধতে-টাধতে জানে না। এবার বিয়ে করব মানুষের মেয়ে, ‘শুনেছি তারা খুব রাঁধতে পারে।’ এই মনে করে সে মেয়ে খুঁজতে গ্রামে গেল। সেখানে এক গৃহস্থের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে ছিল। বাঘ সেই মেয়েটিকে ধরে এনে তার, তার ছানা দুটোকে বললে, ‘দেখ রে, এই তোদের মা।’ছানা দুটো বললে, ‘লেজ নেই, দাঁত নেই, রোঁয়া নেই, ডোরা নেই- ও কেন আমাদের মা হবে! ওটাকে মেরে দাও, আমরা খাই!’ বাঘ বললে, ‘খবরদার! অমন কথা বলবি তো তোদের ছিঁড়ে টুকরো-টুকরো করব!’ তাতে ছানা দুটো চুপ করে গেল। কিন্ত সেই মেয়েটিকে তারা একেবারেই দেখতে পারত না। আর কথায়-কথায় খালি বলত, ‘আর একটু বড় হলেই আমাদের গায়ে জোর হবে, তখন তোর ঘাড় ভেঙ্গে তোকে খাব!’

হলুদ প্রশান্তির দিন

তার আঙুলের ঘ্রাণ, শাড়ির আঁচলের মিষ্টি শব্দ, রিনরিনে হাসির দৃশ্য আর আমাকে চুমু খাবার মুহূর্ত সবকিছু আমার মুখস্ত ছিল। মা কোথাও বাইরে গেলে প্রথমে চুমু খেতেন আমাকে, তারপর বাবাকে। আমার সেই মা, যাকে আমি কোনো ঈশ্বরী ভাবতাম, তিনি আমাকে প্রাণভরে সেদিন চুমু খেলেন একবার, তারপর কয়েকবার।

ছায়া কাহিনী

আমি ভয়ে ভয়ে পেছনে যাচ্ছি। তারা হিংস্র জন্তুর মতো আমার দিকে এগুতে লাগল। যেকোনো সময় অসহায় আমাকে তীব্র আঘাত করবে তারা। আমি নিরুপায় হয় চোখ বন্ধ করতে গেলাম। ঠিক তখন কি যেন একটা ঘটে গেল! যেমন ঘটেছিলো আমার ছায়াটা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়। হুটহাট করে ক্ষুদ্র ঝড়ের মতন করে কালো অবয়বটা ঘরে প্রবেশ করে। বিশাল হাতে আমাকে ঘিরে দাঁড়ায়। ছদ্মবেশী ছায়াগুলো অপ্রতিভ হয়ে ওঠে। তাদের নিজ গোত্রের কাউকে তারা আঘাত করবে না।

রক্তাশ্রু

আজ আকাশটা ভারী করে খুব রক্তের বৃষ্টি ঝরছে। ঠিক চোদ্দদিন পর বৃষ্টি হচ্ছে। সে আমার সব রক্ত প্রায় খেয়ে শেষ করে এনেছে। আমি এখন খুব জোরে এক হেঁচকা টানে সময়ের সেই লাল বেপরোয়া ঘুড়িটার লেজ ছিঁড়ে রক্ত নদীতে ভাসব। আমার কাগজের নৌকা দিয়ে। আমার কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে লালমতন পাখিটা দেখছে আমার ঘর। কিছু টুকরো টুকরো ছড়ানো ছিটানো কাগজ। অসংখ্য কাগজের তৈরি নৌকা। আমি আর আমার ফুলতোলা চাদরে তার লাশ। আচ্ছা আমি কি একজন খুনি?

আলোকিত আঁধারে

আমাদের বৈঠকখানা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল । এই জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে । তখন শুরু হল আমার কান্নাকাটি । সবাই আমাকে এই বলে সান্ত্বনা দিল যে আয়নাটা আমাদের ঘরে নিয়ে যাওয়া হবে । কিন্তু তবুও আমার জানি কেমন একটা অনুভূতি হয়েছিল । মনে হচ্ছিল যেন কিছু হারিয়ে গেছে বা যাচ্ছে । কিন্তু তাকে ধরে রাখার ক্ষমতা আমার ছিল না ।