গ্রহাণু বুকে সচল জাপান

পৃথিবী থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মাইল দূরের রুয়েগু(Ryugu) নামের এক গ্রহাণু পৃষ্ঠে জাপানি মহাকাশ সংস্থা (Japan Aerospace Exploration Agency (JAXA)) প্রেরিত দুটি রোভার সম্প্রতি অবতরণ করেছে। এই রোভারগুলো গ্রহাণুর পৃষ্ঠে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবে, পৃষ্ঠের মাটির স্যাম্পল নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। মহাকাশ গবেষণায় একটি মাইলফলক, এবারই প্রথম গ্রহাণু পৃষ্ঠে কোন মানব তৈরী মেশিন অবতরণ করলো যেটি অবতরণে পর চলাচল করতে পারে।

এর আগে মহাকাশে গ্রহ উপগ্রহে সচলযান পাঠালেও গ্রহাণুতে এই প্রথম। চলাচলের সুবিধার জন্য গ্রাভিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর গ্রাভিটি যথেষ্ট বলেই আমরা হাঁটা চলা করতে পারি। পৃথিবীর মতো না হলেও মঙ্গল বা চাঁদেরও গ্রাভিটি আছে তাই চলাচল তুলনামূলক কঠিন হলেও গ্রহাণুর, যেখানে গ্রাভিটি খুব কম, তুলনায় অনেক বেশি। তাই আমরা এতোদিনে মঙ্গল বা চাঁদে এক্সোপ্লরেশন মিশন পাঠাতে পারলেও গ্রহাণুতে পাঠাতে বেশ সময় লাগলো।

যেখানে গ্রাভিটি যত কম সেখানে চলাচল তত কঠিন। তাই যদি রুয়েগুতে মঙ্গল বা চাঁদে পাঠানো রোভারের মত রোভার, যেগুলোর চাকা আছে, পাঠানো হয় সেগুলো চাকা ঘুরতে গিয়েই মাটি থেকে উপরে উঠে যাবে। এ সমস্যা সমাধান করতে জাপান নতুন এক উপায় বের করে। একে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে “hopping” যার বাংলা করলে দাঁড়ায় “লাফানো”। এই নামকরণ কারণ রোভারগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। আর চলতে চলতে ছবি তুলছে রুয়েগুর।

প্রায় বছর তিন আগে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বারে হায়াবুসা-২ (Hayabusa2) নামের এই মিশনের পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করে রুয়েগুর উদ্দেশ্য এবং ২০১৮ সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ দুটি রোভার, রোভার-১এ এবং বোভার-১বি , গ্রাহাণুতে অবতরণ করে এক্সপ্লোরেশনের কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় বছরের অভিযান শেষে ২০২০ এ ফিরে আসবে জাপানে। ফিরে আসার আগে এটি নিয়মিত ছবি পাঠাবে, মাটির স্যাম্পল সংগ্রহ করবে। এমনকি একটি বিস্ফোরণও ঘটাবে গ্রাহাণুর অন্ত:স্থিত উপাদানের স্যাম্পল সংগ্রহ করার জন্য। আশা করা হয় এই গ্রাহাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা লাভের মাধ্যমে আমরা আমাদের সৌর জগৎ এর গঠন সম্পর্ক নতুন অনেক তথ্য জানবার সুযোগ পাবো। অনেক গ্রহাণু আমাদের অরবিটালের আশেপাশে থাকা সত্ত্বেও এতো দূরের, প্রায় ২০০ মিলিয়ন মাইল, একটি গ্রহাণু বেছে নেয়ার কারণ রুয়েগু একেবারে শুরু দিককার এটি গ্রহাণু। এছাড়াও এর আশেপাশে কোন এটমোস্ফিয়ার নেই বলে বাতাস বা অন্য প্রাকৃতিক কারণে গাঠনিক উপাদান পরিবর্তেনের সম্ভাবনা বেশ কম। তাই শুরুতে সৌর জগৎ গঠন এবং গাঠনিক উপাদান কেমন ছিলো এমন প্রশ্নের উত্তর আশা করা যায় এই মিশনের সফলতার মাধ্যমে।

শেষ করছি আগ্রহীদের আরো জানার দুটি চমৎকার উপায়ের কথা বলে। পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ রুমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের একটা নমুনা আমরা চাইলে এই দারুণ ওয়েবসাইটিতে[1] দেখতে পাবো, এখানে রিয়েল টাইমে রোভারগুলো কোথায় আছে, তাদের ক্যামেরার অবস্থান সম্পর্কেও জানা যাবে।

এই মিশন সম্পর্কিত জাপান মহাকাশ সংস্থার ওয়েবসাইটটিও[2] আগ্রহীদের জন্য মিশন সম্পর্কে নিয়মিত এবং বিস্তারিত খোঁজখবর রাখার একটি দারুণ উপায়।

ওয়েবসাইটগুলো:
১। http://haya2now.jp/en.html
২। http://global.jaxa.jp/projects/sat/hayabusa2/

 

লেখকঃ সাবেক শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। 

Leave a Reply