বইয়ের কথা: ক্রনিকল অব অ্যা ডেথ ফরটোল্ড

কী বই রে বাবা! পড়ার সময় ভান ধরতেছিলাম যে আমার কিছু হচ্ছে না, আরে, এ আর এমন কি, মার্কেজ চাইলে কত কিছু করতে পারেন, এইটা ত লিটারালি নস্যি, কত খেলা দেখলাম এক এই মার্কেজ বেটার। ভাবছিলাম পড়া শেষ হইলে নিজেরে বলবো, হ্যাঁ, হইলো ত, হাতের সূক্ষ্ম কারুকাজ ছিলো ভালোই, কিন্তু বই হিসাবে, নাহ, তেমন জমে উঠে নাই।

কিন্তু এই অনধিক দেড়শো পাতায় একটা এলাকারে এইভাবে তুলে আনা, একটা ঘটনারে পুঁজি করে এতগুলি চরিত্র, কোনোটা শুধুই কাজ দেখাইতে, আবার কোনো কোনোটা এর ফাঁকেই উপুড় করে দিতে মানুষের মন, প্রচণ্ড উচাটন সব বাক্য, চিরে যাওয়ার মত একেকটা, এবং মার্কেজের কমবয়সের হাতিঘোড়ার কিছুই নাই আর এইখানে। এইখানে এসে মার্কেজ সংযত হইতেছেন মনে হয়, আমার অন্তত সময়কালের বিচারে মনে হচ্ছে যে এই বইয়ের সময়েই মার্কেজ কলেরা এবং তৎপরবর্তী পাথেয়ের সন্ধান পাইছেন, অলৌকিক ঘটনাবলী ঘটাইতে কেউ বাতাসে উড়ে যাওয়া জরুরী না, মানুষের মনের বিচিত্র টান কলমের ডগায় যথেষ্ট অলৌকিক। না হইলে বায়ার্দো সান রোমানের কাজকর্ম, বা পাবলো-পেদ্রোর কীর্তি, বা প্লাসিদা লিনেরোর দুয়ারের খিল এঁটে দেয়া, এইসবরে আর কি উপায়ে ব্যাখ্যা করা যায়?

এইটা মানুষের সাহিত্যের ইতিহাসের একটা মোড়। এর আগে পরে বই লেখা হইছে, কেউ কেউ এত সুন্দর, এত ভয়প্রদ, এত গভীর, এমন কি এর চেয়ে ত এর চেয়ে, মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চেয়ে ঢের গভীর কিছুও লিখে থাকতে পারেন, কিন্তু এইরকম বিধ্বংসী পকেট সাইজ হাতবোমা আর কোনো লেখক লিখতে পারবেন বইলা মনে হয় না।
তবে এইরকম হ্যাণ্ডগ্রেনেডও মনে হয় আছে একটা দুইটা, বেশ কয়েকটা। যেমন, ব্রিজ অফ সান লুইস রে। ঐ বইয়ের কি কড়া একটা ছাপ এই বইয়ে নাই? মার্কেজ কিছু না বলে থাকলেও, সম্ভবত আছে। তাতে যদিও সমস্যা নাই, থাকতেই পারে। সুযোগ্য প্রভাব বলতে হবে।

আচ্ছা, হইলো, পৃথিবীর সাহিত্যের অন্যতম সেরা হাতবোমা, সবচেয়ে সেরা যদি নাও হয়।
অবশ্য, অন্য কেউ তো আর এই হাতবোমার কারিগর না, এই লোকটার নাম গার্সিয়া মার্কেজ। উনি সবই পারেন।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, সিএসই বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

Leave a Reply