হালদা একটি সিনেমার নাম

সুষ্মিতা সেন

যার বুকে ঢেউ থাকে, তার বুকে ঘর
জোয়ার ভাটার খেলা করে না তো পর।
জীবন নদীর মতো ঢেউ থামে না,
কেউ তার পার পায়, কেউ পায় না।

দুটি গল্পের সমান্তরাল প্রবাহ “হালদা” চলচ্চিত্রটি। হালদা নদীর পাড়ের এক জেলে পরিবারের কাহিনীর পাশাপাশি হালদা নদী দূষণের ফলে হালদা পাড়ের জনজীবনের বিপর্যয়ের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আজাদ বুলবুলের গল্পে, তৌকির আহমেদের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত “হালদা” চলচ্চিত্রটি ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রের মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, দিলারা জামান, ফজলুর রহমান বাবু প্রমুখ। “হালদা” “৮ম সার্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল২০১৮” -তে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হালদা নদী দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। কিন্তু দূষণের ফলে এ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ফলে হালদা পাড়ে বসবাসকারী জেলে সম্প্রদায়, যাদের জীবিকার একমাত্র উৎস হালদা নদী, তাদের জীবনে নেমে আসা বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে “হালদা” চলচ্চিত্রে।

হালদা পাড়ের এক জেলে মনু মিয়ার (ফজলুর রহমান বাবু) জীবন বাঁচিয়ে তার বাড়িতে স্থায়ী জায়গা করে নেয় সর্বহারা বদি(মোশাররফ করিম)। তার সাথে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মনু মিয়ার মেয়ে হাসুর (নুসরাত ইমরোজ তিশা)। কিন্তু বাবাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য হাসু বিয়ে করে এলাকার ক্ষমতাশালী নাদের চৌধুরীকে(জাহিদ হাসান)। কিন্তু এতে বদি ও হাসুর প্রেম থেমে থাকে না, গোপনে চলতে থাকে তাদের প্রেম। আটকুঁড়ে (যার সন্তান হয় না) নাদের সন্তানলাভের আশায় হাসুকে বিয়ে করে। কিন্তু হাসু যখন সন্তানসম্ভবা হয়, তখন নাদের হাসুর গর্ভের সন্তান তার নয় বলে সন্দেহ করে,যার সুযোগ নেয় তার প্রথম স্ত্রী। এভাবেই কাহিনী চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোতে থাকে।

মূল এ গল্পের পাশাপাশি দেখানো হয়েছে দূষণের ফলে হালদা নদীর বিপর্যয়ের চিত্র এবং নদী দূষণের ফলে নদীর উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা জেলেদের জীবনযুদ্ধের কাহিনী। তবে মূল কাহিনীর সাথে হালদা নদীর বিপর্যয়ের যে সম্পর্ক দেখানো হয়েছে তা কিছুটা অস্পষ্ট। এ দুটি প্রেক্ষাপটের সম্পর্ক আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন সম্ভব ছিল।

চলচ্চিত্রে সকল চরিত্রের অভিনয় প্রশংসনীয় ছিল। সকলেই নিজ নিজ চরিত্র যথার্থভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।তন্মধ্যে হাসু চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয় সকলের নজর কেড়েছে।

চলচ্চিত্রে হালদা পাড়ের কিছু ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। নৌকাবাইচ, বলিখেলা, কাওয়ালি ও কবিগানের আসর প্রভৃতি। এখানে মা মাছ শিকারের দৃশ্যটি হালদা পাড়ের জেলেদের বিশ্বাস ও সংস্কারের প্রকাশ ঘটায়।সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে নিখুঁতভাবে। সবকিছু মিলিয়ে “হালদা” চলচ্চিত্রটি একটি সময়োপযোগী এবং সামাজিক চলচ্চিত্র হিসেবে সকলের কাছে “বাহবা” পাওয়ার যোগ্য একটি চলচ্চিত্র।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 

Leave a Reply