প্রোফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো

খায়রুল হাসান জাহীন

কিশোর সাহিত্য রচনায় সত্যজিৎ রায়ের সিদ্ধি কালজয়ী। খাঁটি বাঙ্গালী বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুকে নিয়ে লেখা তাঁর কল্পবিজ্ঞান-নির্ভর গল্পগুলি সব অর্থেই অফুরন্ত। ভ্রমণ্রসের সঙ্গে অ্যাাডভেঞ্চার মিশিয়ে তার সঙ্গে রহস্যরস ও বিজ্ঞানকে জুড়ে দিয়ে সত্যজিৎ লিখেছিলেন অসাধারণ সব শঙ্কু কাহিনী।

তাঁর আরো একটি অনন্য সৃষ্টি ছ’ফুটি বাঙ্গালী গোয়েন্দা প্রদোষ চন্দ্র মিত্র বা ফেলু’দাকে নিয়ে সত্যজিৎ রায় নিজে তৈরী করেছেন দু’টি সিনেমা। তারপর তাঁর পুত্র সন্দীপ রায় ফেলুদাকে নিয়ে তৈরী করেছেন আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা আর টিভি ড্রামা। কিছুদিন আগেই পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনা ও অভিনয়ে দেখা গেছে একবিংশ শতাব্দীর এক আধুনিক ফেলু মিত্তিরকেও।

সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায় সব সময়ই বলে আসছিলেন, তাঁর ড্রিম প্রজেক্ট হলো প্রোফেসর শঙ্কুকে নিয়ে সিনেমা করা। কিন্তু কল্প-বিজ্ঞানের কাহিনী নিয়ে সিনেমা করতে যে অবকাঠামো, মাল-মশলা দরকার সেটা বাংলা সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে যোগাড়-যন্ত্র করা খুব কঠিন একটা ব্যাপার। তাছাড়া গ্রাফিক্স, স্পেশাল ইফেক্টসের মান সম্মত ব্যবহার না করা গেলে যে প্রোফেসর শঙ্কুর আবেদনে ভাটা পড়বে সেটার আর আলাদা করে বলার কিছু নেই।

এই ঝুঁকিটা নিয়েই সন্দীপ রায় এবারে নির্মাণ করছেন আইকনিক বাংলা কল্প-বিজ্ঞান চরিত্র প্রোফেসর শঙ্কুকে নিয়ে সিনেমা ‘প্রোফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো’। সিনেমায় শঙ্কু চরিত্রে অভিনয় করবেন ধৃতিমান চ্যাটার্জি।

সন্দীপ রায় জানান, “প্রফেসর শঙ্কুর চরিত্রটি কেবলমাত্র এক বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়, বরং অনেক বেশি গ্লোবাল। অনেকগুলো ভাষা, বিশেষত সাবলীল ভাবে ইংরেজি বলতে পারার সঙ্গে সঙ্গে, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার অধিকারী হওয়া জরুরি। ধৃতিমান সেই কারণেই এই চরিত্রের জন্য যথাযথ।”

প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্রে অভিনয় করবেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়

ফেলু’দার মতো সত্যজিৎ রায়ের স্কেচ দেখে প্রফেসর শঙ্কুর চেহারার একটা ধারণা পাঠক আগে থেকেই তৈরী করে রেখেছেন। ফেলু’দা সিনেমায় সব্যসাচী চক্রবর্তী যেমন আইকনিক ফেলুদা হতে পেরেছিলেন, তেমন করে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় সে রকম আইকনিক প্রোফেসর শঙ্কু হতে পারবেন কী না এ নিয়ে বাঙালী পাঠক-দর্শকদের একটা উদ্বেগ থাকবেই। সন্দীপ রায় অবশ্য কথা দিয়েছেন সত্যজিৎ রায়ের আঁকা শঙ্কুর কাছাকাছিই হবে পর্দার শঙ্কুর চেহারা।

শঙ্কু নিয়ে সিনেমা তৈরীর জন্য সন্দীপ রায়ের প্রথম পছন্দের গল্প ছিলো “একশৃঙ্গ অভিযান”। এই গল্প নিয়ে সিনেমা তৈরী করা অত্যাধুনিক টেকনিশিয়ান আর প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব না। তাই তিনি বেছে নিয়েছেন নকড়বাবু ও এলডোরাডো।

আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হতে যাচ্ছে প্রোফেসর শঙ্কুর শ্যুটিং। প্রথম ভাগের শ্যুটিং হবে কলকাতা ও গিরিডিতে। তারপর সদলবলে পাড়ি দিবেন ব্রাজিলে। গল্পের প্রয়োজনেই সিনেমার বেশীর ভাগ জুড়ে থাকবে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার। সব কিছু ঠিক থাকলে আসছে বছরের (২০১৮) শেষ দিকেই দর্শকের কাছে পৌঁছেবে সিনেমা “প্রোফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো”। ততোদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে শঙ্কু ভক্তদের।

Leave a Reply