একটি মুক্ত
পাঠচক্র আন্দোলন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

ছবিতে গ্রহ নক্ষত্র পর্ব- ১

আকাশে কতো তারা?
2
যখন সন্ধ্যা নেমে আসে, তখন আকাশ অন্ধকার হয়ে আসতে থাকে, তার বুকে ফুটে ওঠতে থাকে অসংখ্য জ্বলজ্বলে তারা। ধীরে ধীরে তারা গুলো আরো বেশি করে নজরে পড়তে থাকে সংখ্যায় ওরা কতো?
আকাশের এই তারা যাঁরা গুনতে পারেন তাঁরা হয়তো বলবেন, “হাজার তিনেক!”
আবার যে সমস্ত বিজ্ঞানী তারা ভরা আকাশের আলোকচিত্র নিয়ে চর্চা করেছেন, তাঁরা বলবেন, “কোটি কোটি!”



নক্ষত্র পুঞ্জ কী?
4
মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশ তারায় তারায় ছেয়ে থাকে তারা গুলো যেনো একেকটা উজ্জ্বল বিন্দু সেই প্রাচীন কালেই লোকে আকাশের দিকে চেয়ে দেখেছে, মনে মনে কল্পনা করেছে যে তারা ঐসব উজ্জ্বল বিন্দু একটা একটার সঙ্গে আরেকটা যোগ করলে ছবি পাওয়া যায় তারায় তারায় জুড়ে এই যে একেকটা ছবি হলো, এগুলোকে তারা নাম দেয় নক্ষত্রপুঞ্জ
প্রাচীন গ্রিকদের কাছে কোনো কোনো নক্ষত্র পুঞ্জ হারকিউলিস, পারসিউস, এনড্রোমিডা- এমনই সব প্রিয় নায়ক-নায়িকার চেহারা মনে করিয়ে দেয়; আবার কোনো কোনোটি দেখতে যেনো ড্রাগন, সারমেয়, বক, বীণা ইত্যাদি জীবজন্তু জিনিসের মতো
5 
আজকাল
বিজ্ঞানীরা তারায় ভরা পুরো আকাশটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করেছেন এরকম একেকটি ভাগকে বলা হয়, নক্ষত্র পুঞ্জ



আকাশের কোষার ঋক্ষ বা ভালুক নাম হলো কেনো?
7আকাশের কাছাকাছি একসঙ্গে সাতটা জ্বলজ্বলে তারা সহজেই বের করতে পারো এগুলো আছে একটা কোষার আকারে সপ্তর্ষীমন্ডল বা ঋক্ষ মন্ডল বলা হয় এই নক্ষত্র পুঞ্জকে কাছাকাছি আরো কতোগুলো তারা আছে বটে, তবে সেগুলো তেমন উজ্জ্বল নয় সবগুলো তারা একসঙ্গে মিলে আবার একটা জন্তুর মাথা পায়ের মতো দেখায়, আর কোষার লম্বা হাতটা যেনো তার লেজ সত্যিকার ভালুকের লেজ অবশ্য ওমন লম্বা হয় না, কিন্তু প্রাচীন গ্রিকেরা তার নাম দেয় ঋক্ষজ বা ভালুক



আকাশের ধ্রুব তারা খুঁজে বার করার উপায়
 8j
তারা পুব দিকে ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে উপরে উঠে শেষকালে আকাশের উলটা দিকে, অর্থাৎ পশ্চিমে নামতে নামতে অস্ত যায় পৃথিবী ঘুরে বলেই এটা হয়
কিন্তু একটি তারাই স্থির থেকে যায় আকাশের গায়ে, দেখে মনে হয় আকাশ যেনো তার চারধারে ঘুরছে এই তারার নাম ধ্রুবতারা আমরা উত্তর মেরুতে থাকলে তাকে আমাদের মাথার ওপর দেখতে পেতাম শিশু মার নামে যে নক্ষত্র পুঞ্জ আছে ধ্রুবতারা তারই একটি- ওই নক্ষত্র পুঞ্জের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা
কিন্তু আকাশে তাকে খুঁজে বার করার উপায়? সপ্তর্ষী মন্ডলে উষার শেষে, উপরে নিচে যে দুটো তারা আছে তাদের যোগ করে সোজা একটা সরল রেখা টেনে আরো এগিয়ে গেলে প্রথম যে তারাটা পাবে সেটিই ধ্রুবতারা



পৃথিবী যে একটি গোলক তা জানা গেলো কি করে?
 11
আমরা যখন কোনো সমান মাঠের ওপর দিয়ে হাঁটি তখন তাকে চ্যাপ্টা বলে মনে হয় সমুদ্রকেও সেই রকইমই মনে হয় তাই অনেক অনেক কাল আগে লোকে ভাবতো পৃথিবী বুঝি চ্যাপ্টা আর আকাশ যেনো তার মাথার ওপরকার টোপর
আজকের দিনে সকলে জানে পৃথিবী একটা গোলক কিন্তু তার প্রমাণ?
যখন কোনো জাহাজ সমুদ্রের ওপর দিয়ে যায় তখন তা সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টির আড়াল হয় না প্রথমে দিগন্ত রেখার আড়ালে চলে যায় জাহাজের খোলটা, তারপর তার ডেক, কিন্তু তার মাস্তুল গুলো দূরে আরো অনেকক্ষণ পর্যন্ত চোখে পড়ে, শেষ কালে সেগুলোও আড়াল হয়ে যায়
এমন হওয়ার কারণ এই যে, সমুদ্রের পিঠটা ফোলা আর সমুদ্রের পিঠ যে ফোলা তার কারণ পৃথিবী গোলাকার



দিন রাত কেনো হয়?
13কে না জানে যে দিনের বেলায় আলো আর রাতের বেলায় অন্ধকার হয়? ভূমন্ডলের যে অংশটা সূর্যের দিকে ঘুরে থাকে এবং তার ফলে সূর্যকিরণে আলোকিত হয়ে ওঠে, সেখানে দিন হয় সেই সময় ভূমন্ডলের যে অংশটা সূর্্যের উলটো দিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকে সেখানে ছায়া পড়ে, রাত হয়
ভূমন্ডল অবিরাম লাটিমের পাক খাচ্ছে, তাই একের পর এক পালা করে দিন আর রাতের বদল হতে থাকে
 
 

গরমকাল আর শীতকাল কেনো হয়?
  15
গ্রীষ্মকালে সূর্য আকাশের দিকে অনেক উপরে ওঠে, তাই দিনগুলো লম্বা আর বড় হয় কিন্তু শীতকালে সূর্য আকাশের অনেক নিচ দিয়ে চলতে থাকে তাই দিনগুলো হয় ছোট আর ঠান্ডা এরকম তফাত হওয়ার কারণ কী?
পৃথিবী হলো সূর্যের গ্রহ পৃথিবী সুর্যের চারধারে ঘুরে, বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে
উপরের ছবিতে যেমন দেখানো হয়েছে, পৃথিবী যখন সেই অবস্থায় থাকে তখন তার উত্তর গোলার্ধে আলো বেশি পড়ে এই কারণে সেখানে তখনরম কাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে সে সময় শীতকাল
ছয়মাস পরে (নিচের ছবিতে যেমন দেখানো হয়েছে) পৃথিবী যখন সূর্যের অন্য দিকে আসবে, তখন উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো কম পড়বে এই কারণে সেখানে হবে শীতকাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে তখন আসবে গরম কাল



কোন
ধরণের জ্যোতিষ্ক মন্ডলীকে গ্রহ বলা হয়?
16j 
রাতের আকাশে অনেক সময় জ্যোতিষ্ক মন্ডলী চোখে পড়ে প্রথম দৃষ্টিতে সেগুলো তারা মতো দেখায় কিন্তু সেগুলো সমান ভাবে আলো দেয়, অথচ সত্যিকারের তারা বলতে যা বোঝায় সেগুলো ভীষণ ভাবে মিটমিট করে
বেশ কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যা বেলায় এই ধরণের জ্যোতিষ্ক মন্ডলীর ওপর ভালো করে নজর রাখলে দেখা যাবে যে তারাদের মাঝখানে ধীরে ধীরে তাদের স্থান বদল ঘটছে এই ভ্রাম্যমান জ্যোতিষ্ক মন্ডোলীই হলো গ্রহ
এক, দুই তিন নম্বর ছবিতে গ্রহ খুঁজে বার করো লক্ষ্য করে দেখো তার অবস্থান কেমন পালটে গেছে আর চার নম্বর ছবিতে তারাদের মাঝখানে গ্রহটির গতিপথ দেখানো হয়েছে
গ্রহ হলো জোড়ানো জ্যোতিষ্ক মন্ডলী আমাদের পৃথিবীর মতোই সূর্যের চারদিকে ঘুরে সূর্য গ্রহকে আলোকিত করে, তাই আমরা তাকে দেখতে পাই
 
 

শুক্র মঙ্গল আমাদের কেমন প্রতিবেশি তারা?
 18j
শুক্রগ্রহ সমস্ত তারাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্বলজ্বলে শুক্রগ্রহ সন্ধ্যা বেলা পশ্চিমে এবং খুব ভোর বেলায় পুবে (১নং ছবি) দেখা যায় টেলিস্কোপের ভেতর দিয়ে তাকে দেখায় একদম সাদা, কোনো দাগ নেই তার গায়ে কিন্তু যা দেখা যায় তা আসলে আসল গ্রহটি নয়, তার চারপাশ ঘিরে নিবিড় ঘন মেঘের একটা স্তর শুক্রের বাতাসে আছে বিষাক্ত গ্যাস তাতে নিশ্বাস নেয়াও সম্ভব নয়
সূর্য যখন একপাশ থেকে শুক্রকে আলোকিত করে তখন শুক্রের অর্ধেকটা মাত্র (৩নম্বর ছবি) চোখে পড়ে
19
আমাদের দ্বিতীয় প্রতিবেশি মঙ্গল গ্রহ আকাশে একটা লাল তারার মতো দেখায় (২নম্বর ছবি) তার লালচে রঙ গ্রহের মরুভূমির রঙ (৪নম্বর ছবি) এই মরুভূমি গুলো ছেদ করে চলে গেছে কতোগুলো লম্বা লম্বা দাগ একসময় কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করতেন এগুলো হলো খাল এবং তার ধারের গাছ-গাছড়া কিন্তু এখন স্পষ্ট জানা গেছে যে মঙ্গলে কোনো খালবিল নেই বাতাস সেখানে কম এবং এই গ্রহও নিশ্বাস প্রশ্বাসের অনুপযোগী








চলবে...
 




লেখকঃ বরিস লেভিন ও লিদিয়া রাতলভা
রাদুগা প্রকাশন, মস্কো।
কৃতজ্ঞতাঃ অল সোভিয়েত বুকস ইন বেঙ্গলী

kakadda logo

ঠিকানা:
আলোরমেলা, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০।
জিগাতলা, ধানমন্ডি, ঢাকা - ১২০৫।

ইমেইল:
info@kakadda.com
k
akadda.info@gmail.com

ফোন:
+8801859 304232
+8801971 104077

স্যোশাল লিঙ্কস