একটি সম্পর্কের গল্প…

 

ছোট্ট কিন্তু প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর স্নিগ্ধ শহর কিশোরগঞ্জে সমমনা কিন্তু ভিন্ন বয়সের কিছু মানুষের প্রগতির চর্চাকে একটি সাংগঠনিক রূপ দিতেই কাকাড্ডার জন্ম। কাকাড্ডার পথচলা মাত্রই বছর দেড়েকের। কাকাড্ডার শুরুতে যারা ছিলো, তারা চেয়েছিলো কাকাড্ডাকে একটা সংগঠনে রূপ দিতে। কিন্তু এই বছর খানেক হাতে হাত রেখে চলতে চলতেই অনুভূত হলো, কাকাড্ডা আসলে কোনো সংগঠন নয়, বরংচ একটা সম্পর্ক।আমাদের শুরুর দিকের গোটা পঞ্চাশেক সদস্যের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন, সেই বন্ধনের রঙিন সুতোর নাম কাকাড্ডা। এই সুতো প্রতিদিনই জড়িয়ে যাচ্ছে আরো অনেক নতুন প্রাণ!

ডাউনলোড করুন কাকাড্ডার অ্যাপ

কাকাড্ডা কী ও কেন?

সংগঠন চর্চা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে এই সময়ে। আছে হাজারো সংগঠন, চ্যারিটি। হাজারো মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিছু একটা করার জন্য। কাকাড্ডার জন্মও কিছু একটা করে যেতে, অন্তত একটা দাগ রেখে যেতে। চটকদার বিজ্ঞাপন, গ্ল্যামার, ফেম, এস্টাবিলশমেন্ট এসব কিছুর ভীড়ে কাকাড্ডা স্রোতের প্রতিকূলে চলা এক সংগঠন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পরিবর্তন রাতকে দিন বা দিনকে রাত করে দেয়ার মত বা মুড়ি-মুড়কি ভাজার মত হবে না সেটাই স্বাভাবিক। লড়াই করতে হবে নিজেদের জায়গা থেকে।
কাকাড্ডা ছোট্ট দল। আমরা হয়ত জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় একদিনে আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারব না, আগ্নেয়গিরির মত হঠাত ফুঁসে উঠতে পারব না। কিন্তু আমরা আগ্নেয়গিরির ঘুম ভাঙ্গাতে পারি। আমাদের জীবনকালে আনতে পারি একটা দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক বিপ্লব। সংস্কৃতির দুর্গ জয়ের জন্য লড়াই এখনই শুরু করতে হবে, এই মুহূর্তে । তা না হলে শ্বাসকষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মরবে আমাদের সংস্কৃতি, তার সাথে ধুঁকে ধুঁকে মরব আমরা এবং পরবর্তী প্রজন্ম , সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমাদের সংস্কৃতির ফুসফুস যেন এখন পোকার দখলে। ‘তামাকদ্রব্যের’ মত অপসংস্কৃতির প্রভাব কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। সত্য বলা যেখানে প্রশংসনীয় , কিন্তু আবশ্যক নয়। দুর্নীতি এখানে ডালভাত। মানুষের ‘নৈতিক বোধ’ এর জায়গা অন্ধকার কুঠুরি কিংবা আরো অন্ধকার কবর। প্রগতির চর্চা যেখানে ‘অতিরিক্ত’ বিলাসবহুলতা। একটা সুন্দর গান শোনা বা একটা সুন্দর সিনেমা দেখবার মানসিকতা হয়ে গেছে খোঁড়া। আর তাতে করে সিনেমা আর গানের চেহারা হয়েছে কিম্ভূতকিমাকার । কিন্তু তবুও প্রগতির চর্চা থেমে নেই। তরুণ সমাজ স্বভাবতই স্রোতের বিপরীতে যেতে ভয় পায় না। কিন্তু চর্চার জায়গা কোথায়?
প্লাটফর্মের অভাবে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে উদ্যম কন্ঠ, তার জায়গায় ঘাঁটি গাড়ছে হতাশা, কোনো ক্ষেত্রে নিহিলিজমের মত গভীরতর ভাব। পরিবর্তন সহজ নয় কিন্তু সম্ভব। কাকাড্ডার লক্ষ্য সেই পরিবর্তন বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্লাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। অভিরুচী, মূল্যবোধের পরিবর্তন করা। সত্য আর সুন্দরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

“আমরা মানুষ তো দূরের কথা, কাকের গুণটুকু হারিয়ে ফেলেছি। একটি কাকের কিছু হলে তারা দল বেঁধে চিৎকার করে। যতক্ষণ না সমস্যার সমাধান হয় তারা চিৎকার করতেই থাকে। এই কাকের মতো আত্মসম্মানবোধও আমাদের নেই। তাই আসুন আমরা মানুষ না হতে পারি, অন্তত কাক হয়ে যাই।”

-আহমেদ কামাল
আহমেদ কামালের এই লাইনগুলো থেকে অনুপ্রাণিত কাকাড্ডা পাঠচক্রের নাম। এটি সংগঠনটির রূপক নামমাত্র। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা, অন্যের বিপদে পাশে না দাঁড়ানো- মানুষের এই অমানবিক রূপটিকে ব্যঙ্গ করতেই এই নামটির ব্যবহার।

আমাদের ঠিকানা

যোগাযোগ

Your Name (required)

Your Email (required)

Subject

Your Message

পাঠচক্রের সূচী

প্রতি শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা।

কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শীঘ্রই পাঠচক্র শুরু হবে।

শীঘ্রই পাঠচক্র শুরু হবে। 

পাঠচক্রের সূচী

প্রতি শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটা।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল আলোরমেলা।

শীঘ্রই পাঠচক্র শুরু হবে। 

শীঘ্রই পাঠচক্র শুরু হবে।