মেজেন্ডা রঙের পরিচয়

গাড়ি এসে থামল বাসার সামনে। তিনি গাড়ি থেকে নামলেন। লিফটে উঠার আগে দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলেন তার ছেলে কি বাইরে নাকি বাসায়ই আছে। উত্তর পেলেন তার ছেলে বাসায়ই আছে। এখন তিনি তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনবার কলিং বেল চেপেছেন, পাখি ডাকার শব্দ হচ্ছে। কলিং বেলের এই টিঊন টা তার খুব পছন্দ। আগে তাদের কলিং বেলের টিউন ছিল অন্যরকম। ঢং ঢং আওয়াজ করত। তিনিই নতুন টিউনের কলিং বেল লাগানোর ব্যাবস্থা করেছেন। আবার বেল চাপা হল।

পুরুষ বাক্স

যেখানে বাবা তার ছেলেকে শেখায় কান্না না করতে। কেননা কান্না হচ্ছে মেয়েদের কাজ। এটি একটি ছোট্ট উদাহরণ। ছেলেদের আরো ভয়ঙ্কর সব শিক্ষা দিয়ে বড় করা হয়। সমাজে নারীরা যদি বাস করে কারাগারে, তাহলে পুরুষেরা বাস করে একটি বাক্সে। বাক্সটি তাকে গড়ে তুলে পুরুষ হিসেবে, মানুষ করতে পারে না। সে জন্মের পর থেকেই প্রশিক্ষিত হতে থাকে এই বাক্সের নিয়ম অনুযায়ী। যাতে বলা আছে তুমি পুরুষ, তোমার কাঁদা চলবে না, রাগ ছাড়া কোনো আবেগের প্রকাশ তোমাকে মানায় না, নারী থাকবে তোমার অধীনে, নারীকে অধীনস্ত করার মাধ্যমে প্রকাশ পাবে তোমার পুরুষত্ব। যে পুরুষ এর বিপরীতে যায়, সে ধর্ষিত হয়, মানসিক ভাবে। তাকে সবাই চিহ্নিত করে পুরুষত্বহীন হিসেবে। যদিও শারীরিকভাবে অন্য পুরুষের সাথে তার কোনো পার্থক্য নেই। সমাজে মেয়েদের পোশাক, পছন্দের রঙ, প্রসাধনী আলাদা করা আছে। পুরুষের এসব পছন্দ করাও পাপ। তার এসব পছন্দ হল মানে সে তার পুরুষত্ব হারালো। তাই পুরুষের মানুষ হওয়ার চেয়ে ‘পুরুষ’ হওয়াটা অনেক বেশী জরুরি। এতে যদি তাকে বিবেকহীন হতে হয়- সমস্যা নেই। বেলুন হারিয়ে গেলে তার কাঁদা চলবে না।