অর্ফিয়াসের গল্প – প্রথম কিস্তি

“Orpheus with his lute made trees
And the mountain tops that freeze
Bow themselves when he did sing:
To his music plants and flowers
Ever sprung; as sun and showers
There had made a lasting spring.”

-(Orpheus: William Shakespeare)

সংগীত কে না ভালোবাসে? বিজ্ঞান বলে, সংগীত বহু শারীরিক ও মানসিক রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। সেগুলোকে ছাপিয়েও সংগীতের কিছু অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা আমরা পুরাণে দেখতে পাই। তোমরা যখন মিথ নির্ভর সাহিত্য পড়বে তখন প্রকৃতিকে আন্দোলিত করতে সংগীতের একটি বিশেষ ব্যবহার লক্ষ্য করে থাকবে। তেমনি এক সুরেলা চরিত্র হলো গ্রীক মিথোলজির অর্ফিয়াস।

শুরুতেই উল্লেখ করা কবিতাংশটি পড়ে নিশ্চই বুঝতে পারছো যে এখানে শেক্সপিয়র “অর্ফিয়াস” নামে এমন কারো কথা বলছেন যার বাদ্যযন্ত্রের আবেদনে শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতির নিষ্প্রাণ বস্তুও সাড়া দিতঃ গাছপালা এবং পাহাড়ের চূড়া নুয়ে পড়ত, প্রকৃতিতে নেমে আসতো চির বসন্ত! অর্ফিয়াস ছিলেন একাধারে গ্রীক মিথোলজির একজন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী, কবি এবং ভবিষ্যদ্ববক্তা।

চলো, প্রথমেই জেনে নেই “অর্ফিয়াস” (Orpheus) শব্দটির উৎস। এই শব্দটির উৎস সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রাক-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবর্গের একটি শব্দমূল “orbh” থেকে “অর্ফিয়াস” শব্দটির উৎপত্তি। “orbh” থেকে উদ্ভুত ক্রিয়াপদ “orbhao”। এর অর্থ ছিল বঞ্চিত হওয়া। এই শব্দ থেকে গ্রীক শব্দ উৎপন্ন হয়েছিল “orphe” (অন্ধকার, অন্ধকারাচ্ছন্ন)। পরে এই শব্দমূল থেকে সৃষ্টি হয়েছিল গ্রীক শব্দ “orphanos” (এতিম, পিতাহীন সন্তান)।

এবার জেনে নেওয়া যাক অর্ফিয়াসের জন্ম এবং পরিবার সম্পর্কে। অর্ফিয়াসের পিতৃপরিচয় নিয়েও রয়েছে মতভেদ। কারো কারো মতে, অর্ফিয়াস থ্রেসের রাজা ইগ্রাসের সন্তান। আবার, কেউ কেউ বলে থাকেন, দেবতা এপোলো ছিলেন অর্ফিয়াসের পিতা। অর্ফিয়াসের মাতা ছিলেন মিউজ ক্যালিওপি। আর অর্ফিয়াসের জন্মস্থানের নাম হল পিম্পলিয়া।

অর্ফিয়াসের সংগীতগুরু কে ছিলেন তোমরা আন্দাজ করতে পারো? স্বয়ং দেবতা এপোলো! কিন্তু অর্ফিয়াস সংগীত ও কাব্য রচনা সর্বপ্রথম শিখেছিলেন তার মা ক্যালিওপির কাছে। অর্ফিয়াস যে বাদ্যযন্ত্রটি বাজাতেন তার নাম হল “Lyre”। Lyre হলো একটি সাত তার বিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র৷ শেক্সপিয়র যদিও তাঁর কবিতায় যন্ত্রটিকে “Lute” বলে উল্লেখ করেছেন তবে তা শুধুমাত্রই কবিতার ছন্দ বজায় রাখার স্বার্থেই! প্রাচীন গ্রীক পুরাণে Lyre খুবই জনপ্রিয় একটি বাদ্যযন্ত্র। কথিত আছে, এপোলো অর্ফিয়াসের সংগীত- প্রতিভায় সন্তুষ্ট হয়ে তার নিজের “Lyre” টি অর্ফিয়াসকে উপহার দিয়েছিলেন যা ছিল কচ্ছপের খোল দিয়ে তৈরি। অর্ফিয়াস ছিলেন একজন “আর্গোনট”।

আর্গোনটরা ছিলেন আরেক গ্রীক পুরাণের চরিত্র জেসনের সোনালি পশম জয়ের অভিযানের সদস্য। এই সোনালি পশমের খোঁজে জেসনের জাহাজ – “আর্গো” যাত্রা শুরু করে আয়োলকাস বন্দর থেকে। এই যাত্রায় জেসনের সঙ্গী হলেন হারকিউলিস, অর্ফিয়াস এবং হাইলাসের মত বীরেরা। তাদের যাত্রাপথে পড়লো “সাইরেনাম স্কোপুলি” দ্বীপপুঞ্জ যেখানে বাস করত “সাইরেন” নামক সুরেলা কণ্ঠের ডাইনীরা।

যুগে যুগে অসংখ্য নাবিক তাদের গান শুনে পাগলের মত মোহাচ্ছন্ন হয়ে জাহাজ নিয়ে ছুটে গেছে তাদের দ্বীপে, আর ডুবোচরে ধাক্কা খেয়ে সলিল সমাধি লাভ করেছে সবাই। কিন্তু সংগীতে অর্ফিয়াসকে টেক্কা দেয় কার সাধ্য! অর্ফিয়াস সাইরে

নদের এই ছলনাময় সুর ঢাকার জন্য নিজের বীণায় সুর তুললেন, কোথায় হারিয়ে গেলো যাদুর সুর; নির্বিঘ্নভাবে এগিয়ে চললো সোনালি পশম অভিযান। এই অভিযানের শেষে গ্রীসে ফেরত আসেন অর্ফিয়াস এবং প্রেমে পড়েন “ইউরিডাইস” নামক এক অপূর্ব রূপবতী রমণীর। ইউরিডাইস ছিলেন একজন জলপরী। অর্ফিয়াস এবং ইউরিডাইসের প্রণয় গাথা হলো অর্ফিয়াসকে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিথ৷ পরবর্তী পর্বে তাদের প্রেম-কাহিনী ও অর্ফিয়াস সম্পর্কে আরো মজার মজার আলোচনা করা হবে।

লেখিকাঃ তাসফিয়া ফারাহ, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

2 thoughts on “অর্ফিয়াসের গল্প – প্রথম কিস্তি”

  1. অসাধারন । গল্প টি পড়ে আমার খুব ভালো লাগল । আমি আরফিয়াস সম্বন্ধে জানতে খুব আগ্রহি ।

    Reply

Leave a Comment